জাতীয়

ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

8বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এক বছরব্যাপী প্রচারাভিযানের রূপরেখা

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে এই মেগা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। কর্মসূচির আওতায় থাকবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, মেলা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। মন্ত্রী এ সময় “দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো”—এই স্লোগান সামনে রেখে সর্বস্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। শুধু প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় ও পরিবারে পরিবারে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন সংযোজন

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং দরিদ্র মানুষের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই সংকট নিরসনে সরকার নতুন করে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ৬টি এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও দক্ষ জনবল তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের বিশেষ নির্দেশনা

চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক বা হৃদরোগজনিত জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের অত্যন্ত সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।