সারাদেশ

আগামী মাসে ৩৫ লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

আগামী মাসে ৩৫ লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের আরও ৩৫ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে দেশজুড়ে দুই কোটি শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হলো কোনো শিশুই যেন এই জীবনরক্ষাকারী টিকা থেকে বাদ না পড়ে। মূলত পূর্বের টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সুরক্ষায় এই মপ-আপ ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি শিশুর জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

টিকাদান কর্মসূচির এই নতুন পর্যায়ে মূলত প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের ক্যাম্পেইনগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থান বা সচেতনতার অভাবে যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের খুঁজে বের করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, একটি শিশুও যেন টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতেই সরকার এই বিশেষ মপ-আপ ক্যাম্পেইন হাতে নিয়েছে, যা প্রতিটি ঘরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি এবং ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুর্গম অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছেন, যা এই কর্মসূচির সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব ছিল না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এই সমন্বয় টিকাদান কর্মসূচিকে কেবল সফলই করেনি, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং জনগণের কাছে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির এই ব্যাপক বিস্তার বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে সরকারের এই মনোযোগ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে তা শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। সরকারের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে যে জনসম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।