কলাম

ধোঁয়ায় ঢাকছে আকাশ, বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে কি আমাদের ঢাকা?

ধোঁয়ায় ঢাকছে আকাশ, বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে কি আমাদের ঢাকা?

বর্তমান বায়ুমানের চিত্র ও বাস্তবতা

আজ সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এইমাত্রার বাতাসে ধুলোবালি ও ক্ষতিকর পিএম২.৫ কণার উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি থাকে, যা মানুষের শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আজকের তালিকায় ঢাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে কেবল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (স্কোর ২ আসুন১০) এবং সিঙ্গাপুর (স্কোর ১৭৬)। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর মধ্যে ঢাকার বাতাসের এই লাগামহীন অবনতি যেন আমাদের চিরচেনা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

কেন বাড়ছে এই নীরব বিষ?

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো দীর্ঘদিনের পরিচিত, কিন্তু প্রতিকারে কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এর মূল কারণগুলো হলো:

  • অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে উন্মুক্তভাবে সামগ্রী রাখায় বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে।

  • যানবাহনের ধোঁয়া: পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণকে প্রতিনিয়ত ত্বরান্বিত করছে।

  • ইটভাটা ও শিল্পবর্জ্য: শীতের আবেশ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো পুনরায় চালু হতে শুরু করায় বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

নাগরিক জীবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আমাদের উদাসীনতা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ঢাকার বর্তমান বাতাসে নিয়মিত শ্বাস নেওয়ার ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর বাতাসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলে কাশি, বুক ধড়ফড় করা, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এসব জেনেও আমরা সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকরা এক অদ্ভুত উদাসীনতায় দিন কাটাচ্ছি। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়সারা পানি ছিটানোর অভিযান বা লোকদেখানো উদ্যোগ দিয়ে এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজন কঠোর আইনি প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং প্রতিটি উন্নয়নকাজে পরিবেশবান্ধব নিয়ম মেনে চলা।

নগরের প্রতিটি নাগরিকের বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হলে এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাবে আমাদের এই প্রিয় রাজধানী।