অপরাধ

ভর্তি প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় এসে পূর্বপরিচিতের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাল ১৭ বছরের কিশোর রাকিবুল, মরদেহ উদ্ধার নীলফামারী থেকে

ভর্তি প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় এসে পূর্বপরিচিতের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাল ১৭ বছরের কিশোর রাকিবুল, মরদেহ উদ্ধার নীলফামারী থেকে

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নৃশংস হত্যা

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাকিবুলের হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে এবং তাকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয়। সেখান থেকে তাকে রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে যান মার্কেটিং কোম্পানিতে কর্মরত আবদুল্লাহ আল মামুন। অনলাইন পরিচয়ের সুবাদে রাকিব এর আগেও কয়েকবার মামুনের বাসায় গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

তবে বাসায় নেওয়ার পর রাকিবুলকে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালায় মামুন। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিবুলকে হত্যা করা হয়। এরপর রাকিবকে জীবিত পাওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে তার পরিবারের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতক মামুন। ছেলের জীবন বাঁচাতে পরিবার বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠায়। টাকা পাওয়ার পরও রাকিবকে না পেয়ে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে জিডি এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে।

কার্টনে ভরে মরদেহ গুম এবং নীলফামারীতে মাটিচাপা

কিশোর রাকিবুলকে হত্যার পর তার মরদেহ গুম করতে অভিনন্দ পন্থার আশ্রয় নেয় মামুন। সে মরদেহের পুরো অংশ একটি বড় কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলে, যাতে ভেতরে মরদেহ থাকার বিষয়টি কারও সন্দেহ না হয়। এরপর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় করে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে বাস ও বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনের একটি সুপারিবাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেয় সে।

গ্রেপ্তার ও মরদেহ উদ্ধার

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বিকেলে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালিয়ে কার্টনবন্দি অবস্থায় রাকিবুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিবুলের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া ৪ লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাকে সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।