অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানের বিবরণ
এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকায় অবস্থিত ওই ওষুধ কারখানার দুই নম্বর ইউনিটে আগুন লাগে। প্রথম দিকে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, এসআরবি, বিজিবি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয় এবং দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার গণপরিবহন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীসহ অন্তত পাঁচজন আহত বা অসুস্থ হন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, সাততলা ভবনটির দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। ভেতরে ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধ থাকায় ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
পরিদর্শন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। ভবিষ্যতে আগুন নেভাতে পানির সংকট এড়াতে এলাকার পুকুর, জলাশয় ও খালবিল পরিষ্কার করে পানির পর্যাপ্ত উৎস নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।




