চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২১ পরিবারের প্রায় ১৫০ সদস্যের পৈতৃক বসতভিটার মাঝখান দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, হামলা, হুমকি, মাছ ছিনতাই ও চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তছলিমের বিরুদ্ধে। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী তালুকদার পরিবার।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জাকারিয়া দাবি করেছেন, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুরোনো কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আদালতে দুটি মামলাও দায়ের হয়েছে।
তালুকদার পরিবারের অভিযোগসমূহ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাস্টার জাফরুল হক তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মুছাপুর ইউনিয়নে তারা বংশপরম্পরায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসলেও গত দুই বছর ধরে প্রতিবেশী জাকারিয়া তছলিম তাদের বসতভিটার মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও যেসব অভিযোগ তোলা হয়:
-
সশস্ত্র হামলা ও হুমকি: অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তালুকদার বাড়িতে হামলা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো।
-
মাছ ছিনতাই: বাংলাবাজার ও গাছতলীর হাট-ঘাট এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ ছিনতাইয়ের ঘটনা। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের মধ্যস্থতায় জরিমানা দিয়ে তা মীমাংসা করা হয়।
-
অন্যান্য নির্যাতন: কেরানী মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলা (যিনি বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন), ধোপারহাট মাছ বাজারে ব্যবসায়ীদের মারধর, দধি ও সেলুন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং কাজী আনসারীর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা।
তালুকদার পরিবারের দাবি, বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আইনি লড়াই
পৈতৃক জমির দখল ও সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সন্দ্বীপের আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘কোর্ট ডায়েরি নং-৫৩/২০২৬’ এবং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ‘অপর ৩৫/২০২৬’ নম্বরে মামলা দুটি চলমান রয়েছে। বাদীর পক্ষ থেকে নালিশি সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ ও রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
যা বলছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তছলিম বলেন, “এটি নতুন কোনো রাস্তা নয়, আগে থেকেই মানুষ এই পথে চলাচল করত। স্থানীয় একটি মসজিদ, মুছাপুর তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়দের প্রায় দেড় লাখ টাকা ও আমার নিজের ৭০ হাজার টাকা দিয়ে পুরোনো কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তাটিকে চলাচলের পথ বলে নিশ্চিত করেছে। জায়গাটি যদি তাদের পৈতৃক ভিটা হয়ে থাকে, তবে তারা প্রশাসন বা ভূমি অফিসে প্রতিকার চাইতে পারেন। জনসাধারণের সুবিধার জন্য করা এই রাস্তা নিয়ে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।”




