মূল খবরে যান

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩ ই-পেপার

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, COP31-এ বড় প্রত্যাশাআইডিইবিতে ৩৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটিপোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: শ্রমমন্ত্রী৭ নভেম্বর বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমানশ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবগুড়ায় বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলায় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তারআগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ: হুইপ অপুপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
জাতীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, COP31-এ বড় প্রত্যাশা

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, COP31-এ বড় প্রত্যাশা

ছবি: মোঃ সালমান ইসলাম

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও তাপপ্রবাহে বিপন্ন জনজীবন; জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে ঢাকা

বিশেষ প্রতিবেদন | মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে বাংলাদেশে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও অসহনীয় তাপপ্রবাহ দেশের পরিবেশ, কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের দায় কম নিয়েও এর ক্ষতির বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এই বাস্তবতায় তুরস্কের আনতালিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন—COP31 বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে বিশ্বনেতা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের সামনে জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলার বিভিন্ন এলাকায় লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কৃষি, সুপেয় পানি এবং মানুষের জীবন-জীবিকাকে সংকটে ফেলছে। অন্যদিকে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় নদীভাঙনে বহু পরিবার হারাচ্ছে বসতভিটা। সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিযোজন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা জরুরি। উপকূলীয় বাঁধের টেকসই সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, লবণাক্ততাসহিষ্ণু কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আগাম দুর্যোগ সতর্কীকরণ এবং জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

COP31-এ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দাবি হওয়া উচিত অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং Loss and Damage Fund থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এমন অনেক ক্ষয়ক্ষতি রয়েছে, যা শুধু অভিযোজনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, প্রকল্পের সুফল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কতটা কার্যকর হচ্ছে—এসব বিষয়েও স্বাধীন অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য COP31 কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন নয়; এটি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয়, সেটিই এখন বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

জলবায়ু পরিবর্তনের দায় যারা বেশি সৃষ্টি করেছে, তাদের দায়িত্বও নিতে হবে—বাংলাদেশের দাবি করুণা নয়, জলবায়ু ন্যায়বিচার।

জাতীয়
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।
ডেভেলপ করেছে Metanoz