বিএনপি নেতার জমি দখল-চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
অনলাইন ডেস্ক
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল-নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
১১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গাহলী বাজারে এ মানববন্ধন পালন করেন তারা। এসময় ভুক্তভোগীরা জমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনসহ ওই বিএনপি নেতার বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাতুড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল ও তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মানুষের জমি দখল, ফসল নষ্ট, পুকুরের মাছ লুটপাট এবং নির্যাতন চালাচ্ছেন। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা দ্রুত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার মহিষবাথান সর্দারপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী হাসিনা বানু বলেন, মতিন ও তার ভাই লতিফ আমার বাড়ির জমি দখল করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে মারপিট করে ঘরের জিনিসপত্র লুটপাট করে এবং বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে জমি দখল করে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও নেওয়া হয়নি। আমি আমার জমি ফেরত চাই এবং সুষ্ঠ বিচার চাই।
চককৃষ্ণপুর গ্রামের ভুক্তভোগী হুমায়ূন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি পুকুরে মাছ চাষ করতাম। সেই পুকুরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ছিলো। হঠাৎ একদিন রাতে মতিনের লোকজন এসে পুকুরের মাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে থানাকে জানালেও কোনো সহযোগিতা পায়নি।
কফিল উদ্দিন মন্ডল নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, মতিন ভুয়া দানপত্র একটি দলিল করে আমার ক্রয় করা সম্পত্তি জবরদখল করে খাচ্ছে। জমিতে থাকা ২০০ কলার গাছ কেটে ফেলে। আবার ৫ লাখ টাকা দাবি করে বলে টাকা দিলে ওই জমিতে যাবো না। পরে থানায় অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, মানববন্ধনে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, প্রত্যেকটিই অনেক আগের বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা। এতোদিন পর তারা এসব বলছেন। কারোর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।
সুত্র: জাগোনিউজ ডট কম