নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও এ নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে জোটের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হয়। একই সঙ্গে মহাভিযোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অযোগ্য।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র কমিশনে জমা হবে এবং কমিশনই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
বর্তমান সংসদীয় হিসাবেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনের আগে জোটটি ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল; এর মধ্যে জামায়াত ১৭৯ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগেও জামায়াত তাদের অবস্থান জানিয়েছে। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্ধিত ইলেকটোরাল কলেজের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনপদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক সংস্কারের আলোচনাতেও দলটির সক্রিয় অবস্থান ছিল।
এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু কোনো একটি দলের প্রার্থী মনোনয়নই চূড়ান্ত বিষয় নয়; সংসদে প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কোনো প্রার্থী দিলে সেই প্রার্থীকে ঘিরে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং সংসদের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অবস্থানও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ সদস্যদের তালিকা সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশনকে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ সদস্যদের সভা আহ্বান করতে হবে।
তাই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।