সারাদেশ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে আরও ৩১২ রিক্রুটিং এজেন্সি

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে আরও ৩১২ রিক্রুটিং এজেন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশটিতে জনশক্তি পাঠানোর জন্য আরও ৩১২টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
শুক্রবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-কে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
নতুন করে ৩১২টি এজেন্সি যুক্ত হওয়ায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে বিতর্কের পর নতুন উদ্যোগ
শুরুতে সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জনশক্তি রপ্তানি খাতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অনেকেই সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের হাতে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
বিশেষ করে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার আশঙ্কায় জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকায় বিদ্যমান কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
১০ হাজার কর্মীকে ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার পরিকল্পনা
বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এই কর্মীদের ক্ষেত্রে বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে হবে না বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হওয়ার আশা করছে সরকার।
পাঁচ দেশের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক এজেন্সি
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচ দেশের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় ২৫টি করে রিক্রুটিং এজেন্সি। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় ১০টি করে এজেন্সি।
বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সি আগের একটি তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকেই বাছাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার যৌথ কমিটির যাচাই-বাছাই
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ মালয়েশিয়া সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এই কমিটিতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না।
বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু হতে পারে কার্যক্রম
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল।
তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারগুলোর নতুন তালিকা চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে।
এ কারণে প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে ১৬টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবে।
কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে উদ্যোগ
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এ জন্য বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর সরাসরি নির্ধারিত কোম্পানিতে কাজে যোগদান নিশ্চিত করা এবং দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
আগাম টাকা দেওয়া বা মেডিকেল থেকে বিরত থাকার আহ্বান
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়টি সামনে রেখে দালাল ও প্রতারক চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কোন প্রক্রিয়ায় এবং কবে থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা যথাসময়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা জারি হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ লেনদেন না করা, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং কারও কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।