মূল খবরে যান

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৩ কার্তিক ১৪৩৩

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
জাতীয়

অস্ত্র হাতে মাদকসেবীদের ধাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে মাদকসেবীদের ধাওয়া এবং আত্মরক্ষার প্রেক্ষাপটের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্টি হওয়া সমালোচনার জবাবে রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেন তিনি।

অস্ত্র হাতে মাদকসেবীদের ধাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়:

বিবৃতিতে আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি জানান, তাঁর কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার নামে দেওয়া ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা-6 আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি ওই এলাকায় যান।

অভিযানের ফলাফল:

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় হাতেনাতে ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ:

সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটি চটকদার শিরোনামে প্রচার করা হয়েছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

জাতীয়
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।