ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বর্তমান বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাত মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে বর্তমান সরকার শিক্ষা নেয়নি, বরং তাদের পথেই হাঁটছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
সাবেক সরকার ও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই বলে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গিয়ে জনমতের তোয়াক্কা করছে না। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। বিশেষ করে গণভোট এবং নির্বাচনের বিষয়ে তাদের অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত চেয়েছিল গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়। কিন্তু বিএনপি সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার প্রবণতা বিএনপিকে উগ্রবাদী করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ক্ষমতার দম্ভে বিএনপি এখন জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নিয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়ার পেছনে সরকারের একগুঁয়েমিই দায়ী। তিনি বলেন, যদি বিএনপি দুটি ভোটের মূল্যায়ন সঠিকভাবে করত, তবে জামায়াতকে সংসদের বাইরে রাজপথে আন্দোলন করতে হতো না। তবে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো তাদের কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী এখন থেকে সরাসরি দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেবে। সরকার যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিএনপির বর্তমান শাসনপদ্ধতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমে অসংগতি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করছে। একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করে দিয়ে আগের স্বৈরাচারী কাঠামোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করবে। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, সরকার যদি দ্রুত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার পথে ফিরে না আসে, তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও প্রকট হবে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের কোনো আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সরকারবিরোধী জোটের ঐক্যকে আরও সংহত করতে পারে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।




