রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চে’র প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
‘পতিত সরকারের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না’
১১ দলীয় জোটে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে জনগণের যৌক্তিক দাবি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন ভিন্নখাতে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "যোগ্যতা না থাকলেও সমস্ত স্তরে সরকারি দলের লোকজনকে বসানো হচ্ছে। এমনকি বিএনপির লোক ছাড়া সাধারণ ডিলাররা সারের ডিলারশিপ পর্যন্ত পাচ্ছেন না।"
পুলিশের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন
খুলনা অঞ্চলের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, খুলনায় পুলিশকে রাতে বা একাকী না চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তাই অপ্রাসঙ্গিক তালবাহানা না করে সরকারকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৩১ অক্টোবরের লংমার্চের পরিকল্পনা
আগামী ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত লংমার্চ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, ওই দিন সকাল ৮টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ি বহর নিয়ে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক ও শিল্পীবৃন্দ অংশ নেবেন।
লংমার্চ চলাকালে খুলনা-যশোর মহাসড়কে সাময়িক যানজট ও যাতায়াত ভোগান্তির জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসূল, সাবেক সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, গাজী এনামুল হকসহ ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জের জামায়াতের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।




