ক্যারিয়ারের সোনালী সময়টা বার্সেলোনাতেই কাটিয়েছেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সেই মায়াবী বন্ধন ও স্মরণীয় দিনগুলোর কথা আবারও মনে করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। স্পেনে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে বার্সেলোনাকে নিজের জীবনের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জুকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনের ওভিয়েদো শহরে পৌঁছান মেসি। সেখানে ভক্ত-সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। খেলাধুলায় অসামান্য সাফল্য এবং নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট’ অর্জন করছেন তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথাও স্মরণ করেন ৩৯ বছর বয়সি মেসি। গত আগস্টে মারা যাওয়ার আগে বাবাই তাকে স্পেনে এসে এই পুরস্কার গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ব্যস্ত সূচির মাঝেও বাবার ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। বাবার স্মৃতিচারণা করে মেসি বলেন, এই স্বীকৃতি পেয়ে তিনিও দারুণ আনন্দিত। তার বাবা পুরস্কারটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং তিনি বেঁচে থাকলে এই মুহূর্তটি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতেন।
২০২১ সালে ক্লাবের আর্থিক সংকটের কারণে মন না চাইলেও বার্সেলোনা ছাড়তে হয়েছিল মেসিকে। তবে কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে তার আত্মিক সংযোগ যে আজও ফুরিয়ে যায়নি, তা তার কথায় স্পষ্ট। ২০০০ সালে ক্লাবটির যুব দলে নাম লেখানোর পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় পৌঁছান তিনি। বার্সার জার্সিতে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনে সমৃদ্ধ হয়েছে তার ক্যারিয়ার।
বার্সেলোনা তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেন, বিষয়টি অল্প কথায় ব্যাখ্যা করা সত্যিই কঠিন। ক্লাবটিকে তিনি বরাবরই নিজের জীবনের ক্লাব হিসেবেই দেখেন। মেসির এই আবেগঘন বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হলো, খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় উপহার দেওয়া বার্সেলোনার সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক আজও আগের মতোই অটুট।




