শহীদুল হক, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫০ পিএম
পাহাড়ের বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ। একের পর এক গড়ে উঠেছে শত একর ফলদ বাগান। আম, লিচু, কলাসহ নানা জাতের ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পাহাড়ের কৃষকেরা। কিন্তু তীব্র সেচসংকট সেই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বাগানের পরিচর্যা, দ্রুত বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, আর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পাহাড়ি কৃষকের ভবিষ্যৎ।
বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ফলদ বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের প্রধান জীবিকা। অনেক কৃষক ৫ থেকে ১৫ একর জমিতে ফলের বাগান করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সেচের পানির অভাবে বাগানগুলো প্রত্যাশিতভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৯২টি পরিবার বর্তমানে এই সেচসংকটের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
পাহাড় থেকে পানি আনার কষ্ট ও বাড়তি ব্যয়
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বাগানে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দূরবর্তী ঝিরি বা নিচু জলাধার থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পানি বহন করা যেমন চরম কষ্টসাধ্য, তেমনি এতে উৎপাদন খরচও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ও ক্ষুদ্র চাষিদের পক্ষে নিয়মিত বাগানে পানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানির অভাবে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে সেচ দিতে না পারায় ফলের আকার, গুণগত মান এবং সার্বিক উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে যেমন তাঁদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত শ্রম ও মেগা বিনিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
স্থায়ী সেচব্যবস্থার তাগিদ
স্থানীয় একাধিক চাষির মতে, পাহাড়ি এলাকায় ফলদ বাগান সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন হবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মারাত্মক রূপ নেওয়ায় বাগান রক্ষণাবেক্ষণই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
কৃষি ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা পাহাড়ি এলাকায় পানি সংরক্ষণ, উপযোগী সেচপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং টেকসই পানিব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন— বৃষ্টির পানি ধরে রাখা (Rainwater Harvesting), পাহাড়ের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জলাধার নির্মাণ এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প (Solar Pump) স্থাপন এ সংকটের কার্যকর সমাধান হতে পারে।
এদিকে কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী অর্থবছরে সেচসংকট নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি ফলচাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে তা যুগান্তকারী অবদান রাখবে।




