প্রযুক্তির এক অনন্য ছোঁয়ায় প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক (এআই) অবতারের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি দেশের সেবা ও নিজের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়াত গুরুকে জীবন্ত রূপ রূপায়ণে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
গত শুক্রবার নয়াদিল্লির 'ভারত মণ্ডপমে' আধ্যাত্মিক সংগঠন ‘চিন্ময় মিশন’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন’-এর উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই আধুনিক এআই প্রযুক্তিতে তৈরি স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতারের সঙ্গে তার এই স্মৃতিময় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে মোদি বলেন, “আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আজ দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমি যে কাজগুলো করতে চাই, সেগুলোর জন্য আপনার আশীর্বাদ কামনা করছি।” জবাবে হলোগ্রাফিক অবতারে স্বামী চিন্ময়ানন্দ মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উত্থানে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “ভারত আপনার সঙ্গে আছে, নরেন্দ্র।”
এই অভিজ্ঞতাকে এক 'অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি' হিসেবে বর্ণনা করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “হলোগ্রামের মাধ্যমে চিন্ময়জির ঐশ্বরিক উপস্থিতি দেখে মনে হলো, যেন ৩৩ বছর আগের সেই পুরোনো সময়ে ফিরে গেছি। আমার জন্য এটি অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত।”
স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে ১৯৯৩ সালের প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, সে বছর শিকাগোয় 'বিশ্ব ধর্ম সংসদ'-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে গুরুজিকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। গুরুজি তাতে রাজিও হয়েছিলেন, তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে—৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মোদি আরও উল্লেখ করেন, সে সময় তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা এবং একটি সক্ষম ভারত গঠনের বিষয়ে তাদের মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছিল। এরপরই জনগণ তাকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশসেবার সুযোগ দেয়। আজ ২৫ বছর ধরে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতি মুহূর্তে গুরুদেবের আশীর্বাদ তিনি অনুভব করেন বলে জানান।




