ঢাকার সাভারে একটি মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার পর, ঘটনাটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পাল্টা মামলার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের মামলার বাদী (শিশুটির দাদা) ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও ৭৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ছেলে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন প্রধান আসামি ও মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারীর (৫০) ছেলে মো. উমায়ের। মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পাল্টা মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, ১৭ অক্টোবর স্থানীয় এক ব্যক্তি মাদ্রাসায় ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সন্ধ্যায় কিছু লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালায়, আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আলমারির তালা ভেঙে নগদ ৪৭ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ মোট ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন শিক্ষকের ছেলে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বুধবার সকালে দ্বিতীয় তলা থেকে জুতা আনতে নিচে নামলে ওই শিশু ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী। বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখান এবং শিক্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেন তাঁর স্ত্রী। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে জানালে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা কার্যালয়ে কিছুটা ভাঙচুরও চালায়। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতেই শিশুটির দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, "ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর দাদার করা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে শিক্ষকের ছেলে বাদী হয়ে ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে অপর একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ দুটি মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।"




