রোববার (৮ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন।
আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান দাবি করেন, অভিযুক্ত একজন শিশু এবং ড্রাইভিং সিটে সে ছিল না। ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানান তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের কড়া বিরোধিতা করে জানায়, এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি চালানোর অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে জামিন নাকচ করে বিচারক পর্যবেক্ষণ দেন— সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট যে দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই ওই কিশোর গাড়ি থেকে বের হয়েছে। এই মুহূর্তে তাকে জামিন দিলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে যে, এত বড় অপরাধ করে এবং বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পার পাওয়া সম্ভব। এটি আইনের প্রতি বিত্তবান ও শিশুদের অপরাধপ্রবণতাকে প্রশ্রয় দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে পড়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদির ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিলেও প্রাথমিকভাবে পুলিশ তাকে জিম্মায় ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্পৃক্ততা পেয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর নির্দেশ নিশ্চিত করে।