বাণিজ্য

শিল্পনগরীতে বন্ধের ছায়া

শিল্পনগরীতে বন্ধের ছায়া

শিল্পনগরীতে বন্ধের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একসময় যে শিল্পাঞ্চলগুলোয় সকাল শুরু হতো শ্রমিকদের সারি আর কারখানার সাইরেনে, সেসব এলাকায় এখন কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে বন্ধ গেট, নীরব উৎপাদন লাইন আর কর্মহীন শ্রমিকের অপেক্ষা। দেশের শিল্প খাতের সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, সংকটটি শুধু কোনো একটি কারখানা বা পোশাকশিল্পে সীমাবদ্ধ নেই। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, মালিকদের আর্থিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি, শ্রম অসন্তোষ, কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চ ঋণব্যয়ের সম্মিলিত চাপে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

শিল্প গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানই গাজীপুর, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। অর্থাৎ মোট বন্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৭ শতাংশ দেশের প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোর তিনটিতে কেন্দ্রীভূত।

বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪৫৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৭টি অ-পোশাক কারখানা। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত ১০৮টি, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত ৩৫টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত আটটি এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানটি শুধু পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার চিত্র নয়; উৎপাদনভিত্তিক শিল্পের বিস্তৃত সংকটেরও ইঙ্গিত দেয়।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বন্ধ হওয়ার কারণগুলোর বড় অংশই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তথ্য অনুযায়ী, ২০৫টি প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত কাজ বা ক্রয়াদেশ না থাকায় বন্ধ হয়েছে। আরও ১৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে মালিকদের আর্থিক সংকটে। এই দুই কারণ মিলিয়ে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, যা মোট বন্ধের ৮৬.৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ শিল্পনগরীর বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাজারে কাজের অভাব এবং উৎপাদন চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি।

গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড ও ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের স্থায়ী বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সংকটের সাম্প্রতিক উদাহরণ। প্রতিষ্ঠান দুটি ১৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর ২৩ জুন স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মী কর্মহীন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন কারখানার শ্রমিক। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বকেয়া মজুরি, চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা ও আইনগত পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে শিল্পাঞ্চলের সব কারখানার চিত্র একই নয়। জুলাইয়ের সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে ১ হাজার ২৭৮টি পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র তিনটি বন্ধ ছিল। সাভার-আশুলিয়া এলাকায় ৪০১টির মধ্যে একটি এবং গাজীপুরে ৮৭১টির মধ্যে একটি কারখানা বন্ধ ছিল; নারায়ণগঞ্জের সব পোশাক কারখানাই চালু ছিল। ওই হিসাবে সাভার-আশুলিয়ায় ৯৯.৭৬ শতাংশ, গাজীপুরে ৯৯.৮৯ শতাংশ এবং নারায়ণগঞ্জে ১০০ শতাংশ পোশাক কারখানা চালু ছিল।

এই দুই ধরনের তথ্য পাশাপাশি রাখলে সংকটটির প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হয়। একদিকে শত শত শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে বাজার ও অর্থায়নের চাপ সামলাতে না পেরে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে বড় শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ সক্রিয় কারখানা এখনো উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ শিল্পনগরীর পতন বলতে পুরো শিল্পাঞ্চল অচল হয়ে যাওয়া নয়; বরং দুর্বল ও সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা বাড়া, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি বোঝায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। গ্যাসের নিম্নচাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করছে। জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে; একই প্রতিবেদনে একটি স্পিনিং মিলের মালিক গত সাড়ে চার বছরে গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা উৎপাদন ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন চালু রাখতে অতিরিক্ত ব্যয়ে সিএনজি, এলপিজি, সৌরবিদ্যুৎ বা ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে।

জ্বালানি সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে জুলাইয়ের শেষ দিকে। শিল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যুক্ত হওয়ায় অনেক কারখানাকে উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শুধু জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে না, উৎপাদনের সময়সূচি ও রপ্তানি পণ্য নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের সক্ষমতাও ঝুঁকিতে পড়ছে। শিল্পমালিকেরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু চালু কারখানাতেই নয়, নতুন বিনিয়োগেও পড়ছে। কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ৭৩২ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত কাচ ও রড কারখানা গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। দুটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ বাবদ বছরে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা পরিশোধের প্রয়োজন হলেও গ্যাস না থাকায় কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম এবং নির্ধারিত ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রারও নিচে। যদিও ২০২৬ সালের জুনে রপ্তানি ২৫.৯১ শতাংশ বেড়ে ৪.২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, বছরের সামগ্রিক ফলাফল শিল্পের ওপর বৈশ্বিক চাহিদা ও প্রতিযোগিতার চাপের কথাই বলছে।

বিশেষ করে পোশাকশিল্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্বিমুখী। একদিকে বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে প্রায় ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, শ্রম ব্যয়, বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কারখানাগুলোর লাভের জায়গা সংকুচিত করছে। ফলে বড় ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকলেও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিল্প সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংকঋণ ও অর্থায়ন। একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উৎপাদন বন্ধ হয় না; ব্যাংকের ঋণ, সুদ, শ্রমিকের পাওনা, সরবরাহকারীর বিল এবং কর-শুল্কসহ বহু আর্থিক দায় একসঙ্গে সামনে আসে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে সম্পদ পড়ে থাকে, কিন্তু সুদের দায় চলতে থাকে। ফলে সাময়িক সংকট দ্রুত স্থায়ী অচলাবস্থায় পরিণত হতে পারে।

এই বাস্তবতায় সরকারও বন্ধ ও অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের জন্য অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার লক্ষ্য ছিল বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা, নিষ্ক্রিয় কারখানা পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর একটি অংশ বন্ধ বা সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য বরাদ্দের কথা জানানো হয়।

কিন্তু শুধু ঋণ দিয়ে শিল্পের সংকট দূর করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যে কারখানার উৎপাদিত পণ্যের বাজার নেই, সেখানে নতুন ঋণ আরও দায় তৈরি করতে পারে। আবার যে কারখানা অর্ডার পাচ্ছে কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ বা কাঁচামালের সমস্যায় উৎপাদন করতে পারছে না, সেখানে জ্বালানি ও অবকাঠামো সমাধানই বেশি জরুরি। অর্থাৎ সব বন্ধ কারখানার জন্য একই ধরনের নীতি কার্যকর হবে না।

শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য তাই প্রথমে বন্ধের কারণ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা করা প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠান অর্ডারের অভাবে বন্ধ হয়েছে, তাদের নতুন বাজার ও ক্রেতা খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্য আনতে সহায়তা দরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে, তাদের ঋণ পুনর্গঠন ও স্বল্পসুদের অর্থায়ন প্রয়োজন হতে পারে। জ্বালানি সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি। আর যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তাদের আধুনিকায়ন ছাড়া শুধু আর্থিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে ফল দেবে না।

এখানে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে শুধু কারখানার শ্রমিক চাকরি হারান না; পরিবহন, খাবারের দোকান, বাসাবাড়ি, ছোট ব্যবসা, কাঁচামাল সরবরাহ, স্থানীয় বাজার—সবখাতেই তার প্রভাব পড়ে। শিল্পনগরীর অর্থনীতি মূলত একটি বৃহৎ কর্মসংস্থান-নির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি। তাই শত শত কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার অর্থ ওই শিল্পাঞ্চলগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হওয়া।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘শিল্পনগরীর পতন’ হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করাও তথ্যসম্মত হবে না। জুলাইয়ের সরকারি পরিসংখ্যানে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় সব পোশাক কারখানা চালু থাকার তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে জুনে দেশের রপ্তানি শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ শিল্প খাতের একটি অংশ গভীর সংকটে থাকলেও অন্য অংশ এখনো সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

বরং বর্তমান বাস্তবতাকে শিল্প খাতের ‘বাছাইপর্ব’ বলা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে পারছে, নতুন ক্রেতা ও বাজার তৈরি করছে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বিকল্প তৈরি করছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করছে, তারা টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখছে। বিপরীতে পুরোনো প্রযুক্তি, উচ্চ ঋণভার, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, কম ক্রয়াদেশ ও অনির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহে আটকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংকট আরও গভীর হতে পারে।

আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিল্প বন্ধের গতি থামিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, ঋণের সুদ ও পুনঃতফসিলের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা করা, রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন শিল্পে বিনিয়োগ সহজ করা এবং শ্রমিকের পাওনা নিশ্চিত করা—সবগুলো বিষয়কে একই নীতির অংশ করতে হবে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি তাই একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছে। শিল্পনগরীর বাতি এখনো নিভে যায়নি; বরং বড় অংশের কারখানা চলছে। কিন্তু ৪৫৭টি স্থায়ী বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ২৩৪টি বন্ধ টেক্সটাইল মিলের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব, জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ক্ষতি এবং রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা দেখিয়ে দিচ্ছে—শিল্পের ভিতের ওপর চাপ জমছে। এখন সেই চাপ মোকাবিলা করা না গেলে আজকের বিচ্ছিন্ন বন্ধ কারখানাগুলো আগামী দিনের বড় কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সংকটের পূর্বাভাস হয়ে উঠতে পারে।