নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ‘ব্যর্থ’ বলে আখ্যায়িত করাকে চরম অসহিষ্ণুতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারকে কাজ করার জন্য সময় ও সুযোগ দিতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হলে তা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বয় করতে সময় প্রয়োজন। তাই সরকারকে কিছুটা সময় না দিয়ে দ্রুত ব্যর্থ বলে দেওয়া দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যে সরকারের সমালোচনার সুযোগ অস্বীকার করা হয়নি। তবে তিনি মনে করেন, সমালোচনা করতে হলে তা তথ্য, বাস্তবতা ও সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সরকারকে ব্যর্থ ঘোষণা করার প্রবণতা রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ভুল বা দুর্বলতা থাকলে তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। এতে সরকারের জবাবদিহি যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি রাজনৈতিক পরিবেশও সহনশীল থাকবে।
মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনীতি এবং নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা কঠিন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পর নির্বাচনের আয়োজনের কথা বলে আসছে। এই অবস্থায় সরকারের কার্যকারিতা ও নির্বাচনকাল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সরকারের কাজের মূল্যায়ন করতে হলে পর্যাপ্ত সময় ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের ব্যর্থতা বা দুর্বলতা দেখা দিলে রাজনৈতিক দলগুলোর তা তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা যেন অস্থিরতা সৃষ্টি না করে, সেদিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে সমালোচনার পাশাপাশি তথ্যনির্ভরতা, দায়িত্বশীল ভাষা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যেও দ্রুত সিদ্ধান্তে না গিয়ে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।