নিজস্ব প্রতিবেদক:
কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালির রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ১৭৪ বাংলাদেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রোমে অবতরণের পর উড়োজাহাজটি কারিগরি সমস্যায় পড়ে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীসহ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি নির্ধারিত যাত্রাপথে কানাডার টরন্টো থেকে রওনা হয়ে রোমে অবতরণ করে। রোমে নির্ধারিত বিরতির পর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর যাত্রীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করা ছিল কষ্টকর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে যাত্রীদের খাবার, পানি ও অপেক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব সেবার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।
রোমে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইতালির প্রবেশ ও ট্রানজিট বিধি অনুযায়ী যাত্রীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থার সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ বিলম্বের সঙ্গে যাত্রীদের চলাচলসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কয়েকজন যাত্রী দীর্ঘ অপেক্ষা, যোগাযোগের ঘাটতি এবং যাত্রীসেবা নিয়ে অভিযোগ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যাচাইযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা। আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উড়োজাহাজের ত্রুটি নিরসন করা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ যেমন কারিগরি ত্রুটি, তেমনি তাদের যথাসময়ে তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং মানবিক সেবা নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় পর ১৭৪ যাত্রীকে নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ায় তাৎক্ষণিক দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। তবে এত দীর্ঘ সময় যাত্রীদের আটকে থাকার কারণ, যাত্রীসেবা ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।