নিজস্ব প্রতিবেদক:
কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালির রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকা ফ্লাইটের প্রায় ২৬০ যাত্রী দীর্ঘ সময় আটকে পড়েছেন। ৭ আগস্ট নিয়মিত জ্বালানি নেওয়ার সময় উড়োজাহাজটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করতে পারেনি ফ্লাইটটি। ৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৮ ঘণ্টা যাত্রীদের রোম বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিষয়টি যাত্রী দুর্ভোগ, বিমানসেবা ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে যাত্রী অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটির রোমে নির্ধারিত কারিগরি বিরতি ছিল। স্থানীয় সময় ৭ আগস্ট সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে জ্বালানি নেওয়ার সময় উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হয়। ত্রুটি ধরা পড়ার পর উড়োজাহাজটি আর উড্ডয়নের উপযোগী অবস্থায় থাকেনি। ফলে টরন্টো থেকে আসা যাত্রীদের ঢাকার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ফ্লাইটটিতে বাংলাদেশি ছাড়াও ইতালি ও কানাডার নাগরিক ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার সৈয়দ কাজেম শাহও ওই ফ্লাইটে আটকা পড়েন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন যাত্রী দীর্ঘ অপেক্ষা, খাবার ও বিমান কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ নিয়ে অসন্তোষের কথাও জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সবগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামতের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ রোমে পাঠানো হচ্ছে। বিমান কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেরামত সম্পন্ন হলে স্থানীয় সময় ৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসার সম্ভাবনা ছিল। সে ক্ষেত্রে ৯ আগস্ট সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। তবে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটি পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিমান চলাচলে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রী নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। এ কারণে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজকে নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া উড্ডয়ন করানোর পরিবর্তে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় যাত্রীদের আটকে রাখতে হলে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য, খাবার, বিশ্রাম ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রোমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘপথের ফ্লাইটে রোমকে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিরতি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে টরন্টো রুটে ঢাকা-রোম-টরন্টো এবং টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটে নিয়মিত পরিচালনার তথ্য রয়েছে। ফলে রোমে কোনো দীর্ঘস্থায়ী কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে শুধু একটি ফ্লাইটের যাত্রী নয়, পরবর্তী ফ্লাইট সূচিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার এই ঘটনা বিমান সংস্থার কারিগরি সক্ষমতা, জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য প্রদানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ, যাত্রীদের জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এ ঘটনায় দায় বা অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।