জাতীয়

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নিয়োগ

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণে পৃথকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন পদে আবেদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, প্রভাষকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। জুলাই মাসেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নিয়োগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণকারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারছেন।

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গত মে মাসে জাতীয়করণ করা কলেজগুলোর শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে কলেজভিত্তিক বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নোটিশ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে এসব কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদ সৃষ্টির পর নিয়োগের পথ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি স্কেল ও টাইম স্কেলসংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি কলেজের গভর্নিং বডি ও নিয়োগ কমিটির কার্যক্রমও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ উপবিভাগ এসব বিষয়ে কাজ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিভিন্ন বিভাগ ও প্রশাসনিক দপ্তরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পদসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা এবং আবেদনপদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট থাকলে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়। একইভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীর শূন্য পদ দীর্ঘদিন পূরণ না হলে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে শূন্য পদগুলো দ্রুত ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পূরণ করা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মেধা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য নির্ধারিত বিধি ও যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগের প্রতিটি ধাপে ন্যায্যতা বজায় থাকলে যোগ্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পাবেন।

চলমান এসব নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল ঘাটতি পূরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে নিয়োগের সংখ্যা ও পদভেদে সুযোগ ভিন্ন হওয়ায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে আবেদন করাই হবে নিরাপদ।