জাতীয়

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেছেন। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি মাতারবাড়ীতে পৌঁছান। পরে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এটি তাঁর প্রথম সফর।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন। মাতারবাড়ীতে পৌঁছে তিনি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের সমুদ্রবাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণ সহায়তা রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং সড়ক অবকাঠামোর অংশ বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ১ হাজার ৩১ একর এলাকায় বন্দর অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গভীরতার কারণে বড় আকারের কনটেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্দরটি চালু হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় জাহাজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর ট্রান্সশিপমেন্ট নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগেরও যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় বন্দরটির নকশা, পরিবেশগত বিষয় এবং পরিচালন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্দর নির্মাণের জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বন্দরটি বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও সময় কমানো, বড় জাহাজে সরাসরি পণ্য পরিবহন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকায় শিল্প, পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভূমি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাতারবাড়ী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দিকে যাবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিরতি নেওয়ার পর বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। দিনের কর্মসূচি শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্দর ও বাণিজ্য অবকাঠামোর অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ একই সফরে উন্নয়ন ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন—দুই বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।