নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর পল্লবী ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পৃথক ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পল্লবীতে বিএনপি কর্মী মো. আলমগীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় জোসনা (৬৫) নামের এক পথচারী নারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজি আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর সহযোগী ইয়াছিন সেন্টু গুলিবিদ্ধ হন।
নোয়াখালীর ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজি আবুল কাশেম হকার্স মার্কেটের কার্যালয়ে অবস্থান শেষে সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। তাঁরা হেঁটে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এ সময় ইয়াছিন সেন্টু কাশেমকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লাগে এবং গুলি সেন্টুর বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাজি আবুল কাশেম বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার তাৎক্ষণিক কোনো কারণ পুলিশ বা ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপির এক নেতা হকার্স মার্কেট নিয়ে বিরোধ ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে বিষয়টির যোগসূত্রের অনুমান করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আবার চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য এখনো তদন্তে প্রমাণিত নয়।
ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি চৌমুহনী রেলওয়ে গেট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হকার্স মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীর ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের ‘বি’ ব্লকের একটি চায়ের দোকানের সামনে। বিএনপি কর্মী মো. আলমগীর হোসেন (৪৫) সেখানে বসে চা পান করার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে তাঁর মাথা, পেটের ডান পাশ ও ডান নিতম্বে আঘাত লাগে। প্রথমে তাঁকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গুলির সময় ঘটনাস্থলে থাকা পথচারী জোসনা (৬৫)-এর পায়েও একটি গুলি লাগে। তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও হামলার সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে ওই পথচারী আহত হন।
আলমগীরের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রাইভেট কারে করে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত চলে যায়। তিনি হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে চিনতে পেরেছেন বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাসির জানিয়েছেন, স্থানীয় অপরাধী রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আলমগীর ও একজন পথচারী আহত হন। হামলার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে পল্লবীর হামলার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্থানীয় বিরোধের কথা এসেছে। একটি প্রতিবেদনে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আলমগীরের সঙ্গে রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলের দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করে হামলার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ফলে এ বিষয়টি আপাতত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
দুটি ঘটনায়ই হামলার ধরন ছিল লক্ষ্যভিত্তিক গুলি চালানোর মতো। তবে নোয়াখালীতে লক্ষ্য করা ব্যক্তি কাশেম অক্ষত থাকলেও তাঁর সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন; পল্লবীতে লক্ষ্য করা বিএনপি কর্মী আলমগীর গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একজন নিরীহ পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এলেও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের দায় আইনগতভাবে তদন্তের পরই নিশ্চিত করা সম্ভব।
একই সময়ে দেশের দুই প্রান্তে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর গুলির ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিংবা স্থানীয় ব্যবসায়িক ও অপরাধী চক্রের বিরোধে যাতে সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং নিরপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর ঘটনায় ইয়াছিন সেন্টুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং পল্লবীর গুরুতর আহত আলমগীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ উভয় ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।