নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।
তবে আরাফাত নামে এক আসামিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করায় তাকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২৪ জনের রিমান্ড
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—আ. রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানান।
পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্তের দাবি
তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন আদালতে বলেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আদালত শুনানি শেষে ২৪ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিছিলের পর ৩২ জন গ্রেপ্তার
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ শনিবার এক বার্তায় জানায়, গুলশানের ঘটনায় মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মিছিলে ‘সরাসরি অংশগ্রহণকারী’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ মানুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল বের হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
এ ছাড়া সরকারবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সমাবেশ আয়োজন, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগও আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।