সারাদেশ

পুলিশের মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদক নিয়ে যা বললেন এলাকাবাসী

পুলিশের মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদক নিয়ে যা বললেন এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সভায় এসব অপরাধের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
শনিবার বিকালে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদপুরে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। সভায় কারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, কোথায় চাঁদাবাজি ও মাদক কেনাবেচা হয় এবং লুট হওয়া অস্ত্র কার কাছে রয়েছে—এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেন কয়েকজন বক্তা।
‘অলিতে গলিতে মাদক কেনাবেচা’
এক তরুণ বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে শুধু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করছে; পরে তাদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।
বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যাদের কাছে রয়েছে, তাদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বছিলা বড় মসজিদের খতিব আবু তাহের বলেন, বিভিন্ন হাউজিং এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও রয়েছে।
জাকির হোসেন রোডের মাঠ এলাকায় বহিরাগতদের উৎপাত নিয়েও অভিযোগ করেন এক নারী। তাঁর দাবি, এলাকায় নিয়মিত চুরি হলেও পুলিশের কার্যকর ভূমিকা যথেষ্ট নয়।
কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় জামায়াত নেতা রবিউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আবুল বাশারও মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদককে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন।
বিএনপির এক কর্মী দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা বেড়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্যের পর র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান গত দুই মাসে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের তথ্য তুলে ধরেন।
‘সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’
র‌্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, শুধু পুলিশ বা র‌্যাবের পক্ষে একা মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ কাজে স্থানীয় জনগণসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি স্থানীয়দের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।
‘কিশোর গ্যাং শব্দটাই থাকবে না’
স্থানীয়দের বক্তব্য শুনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় তিনি মূলত তিনটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন—কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই। এসব সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, আগের তুলনায় মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, এসব সমস্যা একদিনে স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।
রিকশার গ্যারেজসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের আশ্বাস দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না—‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটিও থাকবে না। এ জন্য র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাবে।