বিনোদন

এক সিনেমার দুই সমাপ্তি, মাঝপথে পরিচালকও বদল—১০০ বছর পর সেই গল্প

এক সিনেমার দুই সমাপ্তি, মাঝপথে পরিচালকও বদল—১০০ বছর পর সেই গল্প

 

হলিউডে গার্বোর দ্বিতীয় ছবি ও নেপথ্য গল্প

স্প্যানিশ ঔপন্যাসিক ভিসেন্তে ব্লাসকো ইবানিয়েসের ১৯২২ সালের উপন্যাস ‘লা তিয়েরা দে তোদোস’ (ইংরেজি অনুবাদ ‘দ্য টেম্পট্রেস’) অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল এই চলচ্চিত্রটি। মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ারের (এমজিএম) প্রযোজনায় এটি ছিল হলিউডে গ্রেটা গার্বোর দ্বিতীয় ছবি। এর আগে ‘দ্য টরেন্ট’ দিয়ে হলিউডে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। ছবিতে এলেনা চরিত্রে গার্বোর অভিনয় এবং তাঁর বিপরীতে আন্তোনিও মোরেনো ও লায়োনেল ব্যারিমোরের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল।

ক্যামেরার পেছনের নাটকীয়তা ও পরিচালক বদল

ছবিটির পর্দার পেছনের গল্পও কম নাটকীয় ছিল না। সুইডেন থেকে আসা তরুণী গার্বোর প্রতিভা যাঁদের হাত ধরে বিকশিত হয়েছিল, সেই মরিত্জ স্টিলার শুরু করেছিলেন ছবিটির পরিচালনা। কিন্তু স্টুডিও ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর কাজের গতি ও পদ্ধতি খাপ না খাওয়ায় মাত্র এক মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে ফ্রেড নিবলোকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গার্বো হলিউড ছেড়ে সুইডেনে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত থেকে যান, যা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

দুটি সমাপ্তি ও শতবর্ষের ঐতিহ্য

‘দ্য টেম্পট্রেস’ ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি ছিল এর দুটি ভিন্ন সমাপ্তি—একটি বিষাদময় এবং অন্যটি সুখের পুনর্মিলনের। সে সময় দর্শকের পছন্দের কথা মাথায় রেখে এমজিএম প্রধান লুই বি মেয়ারের নির্দেশে বিকল্প এই সমাপ্তি দুটি তৈরি করা হয়েছিল।

নির্বাক যুগের বহু চলচ্চিত্র কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও ‘দ্য টেম্পট্রেস’-এর ৩৫ মিলিমিটার প্রিন্ট এবং লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে স্বত্ব নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। শতবর্ষ পেরিয়েও ২০ বছর বয়সি তরুণী গ্রেটা গার্বোর সেই মোহময়ী রূপ ও অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অম্লান হয়ে আছে।