কলাম

পরিবার থেকে ঘৃণা: সামাজিক ব্যাধি নাকি সম্পর্কের অবক্ষয়?

পরিবার থেকে ঘৃণা: সামাজিক ব্যাধি নাকি সম্পর্কের অবক্ষয়?

 

কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়:

  • তুলনা ও প্রত্যাশার চাপ: সন্তান বা পরিবারের কোনো সদস্যকে অন্য কারও সাথে প্রতিনিয়ত তুলনা করা এবং অবাস্তব প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে ভালোবাসার বদলে জুটে চরম তিরস্কার ও অবহেলা।

  • জেনারেশন গ্যাপ ও মতপার্থক্য: পুরনো ও নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার অমিল যখন সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করে, তখন সেখানে জন্ম নেয় ক্ষোভ ও ঘৃণা।

  • পারিবারিক সম্পত্তি ও স্বার্থের সংঘাত: ভাই-বোন কিংবা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বৈষয়িক স্বার্থ ও সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক সময় স্থায়ী বিষাক্ত সম্পর্কে রূপ নেয়।

  • মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব: বিষাদ, ট্রমা বা মানসিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অপবাদ দেওয়া বা দূরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা।

এর পরিণতি কতটা মারাত্মক? পরিবার থেকে প্রাপ্ত ঘৃণা বা অবহেলা একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা, একা হয়ে যাওয়ার ভয় এবং সামাজিক জীবনে সম্পর্কের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। রক্ত সম্পর্কের মানুষের অবহেলা মানুষকে সমাজের অন্যান্য সম্পর্কের প্রতিও দিন দিন কুণ্ঠাবোধ তৈরি করে।

মুক্তির উপায় ও করণীয়: পরিবার কোনো নিখুঁত প্রতিষ্ঠান নয়; প্রতিটি পরিবারেই ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সম্পর্ককে বিষাক্ত হতে না দেওয়ার জন্য খোলামেলা আলোচনা বা 'ওপেন কমিউনিকেশন' সবচেয়ে জরুরি। পরস্পরের মতামত ও ব্যক্তিগত স্থানকে (Personal Space) সম্মান জানানো শিখতে হবে। প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সিলর বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরিবার যদি ভালোবাসার জায়গা না হয়ে কেবল ঘৃণার উৎস হয়ে ওঠে, তবে সেই মানসিক ক্ষত পুরো সমাজকেই প্রভাবিত করে। তাই আসুন, শাসনের নামে অহেতুক ঘৃণা নয়, বরং সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই প্রতিটি পরিবারকে সত্যিকারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল করে তুলি।