প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দম্পতির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিকদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হচ্ছে। মাদুরোর শাসনামলে ১২ জনের বেশি মার্কিন নাগরিককে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হতে পারে।
নাটকীয় গ্রেপ্তার ও আইনি লড়াই
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মাদুরো ও ফ্লোরেসকে তাঁদের বাসভবন থেকে আটক করেন। এরপর অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সিলিয়া ফ্লোরেসকে জামিন শুনানির জন্য নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাদুরো ও ফ্লোরেস—দুজনেরই মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছরের জুন মাসে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ বনাম আইনি যুক্তি
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মাদুরো, তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং সহযোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন পাচার করেছেন। এমনকি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকটি মাদক চক্রের সঙ্গেও তাঁদের অংশীদারত্ব ছিল। ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মাদুরোসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মাদুরো শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতের কাছে অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন জানিয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, মাদুরো একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে আইনি দায়মুক্তি রয়েছে। এছাড়া তাঁকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্র ধরে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে বিচারক এখনো এই আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।