ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, নির্ধারিত এই নৌপথের ভৌগোলিক ও কৌশলগত তথ্যগুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) অবহিত করা হবে, সে বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের যৌথ কাঠামোর ভিত্তিতে এই চুক্তি সম্পাদিত হলো। এর আগে গত আগস্ট মাসে দুই দেশ একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরি, মাইন অপসারণ এবং নিরাপত্তা তথ্য শেয়ারিং নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল।
সমঝোতার পরিধি ও শর্তাবলী
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেছে বা সেখানে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলেছে। গত আগস্টে ওমানের সঙ্গে যৌথ কাঠামোর ঘোষণার পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছিলেন যে, সাময়িক এই পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে এবং এর প্রবেশদ্বার থাকবে সম্পূর্ণ ইরানের জলসীমায়।
পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করাটা আন্তর্জাতিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
আইআরজিসির কঠোর অবস্থান
এদিকে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান অধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নকদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বিবেচিত নৌপথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওমান উপকূলের দক্ষিণ অঞ্চলের বিকল্প নৌপথগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, পাথর কেটে তৈরি এসব পথ দিয়ে ছোট নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া আইআরজিসির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে বলে মার্কিন দাবিও জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।