ঘটনার নেপথ্য ও বিচ্ছেদ
কাবিননামা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার পুরুষ সেজে ‘রাসেল’ নাম ধারণ করেন। এরপর গত বছরের ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে আদালতের এফিডেভিট ও কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস তারা একসঙ্গে সংসার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্পষ্ট হয় যে, বর ও কনে উভয়ই সমকামী এবং নিজেদের এই সম্পর্ককে সমাজে গ্রহণযোগ্য করা ও আড়াল রাখতেই চাঁদনী নিজের নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে ছদ্মবেশে বিয়ের এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ঘটনাটি প্রথমে চাঁদনীর বাবা টের পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিষয়টি সুরাহা করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে উভয় পক্ষকে উপস্থিত করে কনে লাবনীকে তার পরিবারের জিম্মায় তুলে দিয়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।
সালিশে মারধর ও শাস্তির চিত্র
সালিশে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিচার চলাকালে উপস্থিত লোকজনের সামনেই বাঁশের কঞ্চি বা বেত দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করা হয় এবং কান ধরে উঠবস করানো হয়। পাশাপাশি তাকে ভবিষ্যতে আর কখনো ছেলেদের পোশাক (শার্ট-প্যান্ট) না পরার কড়া নির্দেশ দেন সালিশের বিচারকরা। সেখানে চাঁদনী নিজের ভুল স্বীকার করে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, দুজন মেয়ে বিয়ে করে সংসার করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে সালিশে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম শুনেছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তাঁদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়নি; লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




