শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) আমতলী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে ওই চারজনকে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ও আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হন।
শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে নির্যাতন ও পুলিশের ভূমিকা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে জালাল ফকিরের নির্দেশে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে যায়। এর ঘণ্টা তিনেক পর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে অপর দুই শিক্ষার্থী মো. আসিফ ও মো. তামিমকে তুলে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিএনপির আমতলী উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে দিনভর আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্যাতন চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনা চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য।
বিএনপি নেতা ও পুলিশের বক্তব্য
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির বলেন, “ওদের ওপর কোনো নির্যাতন করা হয়নি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ডেকে এনে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা এবং কাদের ইন্ধনে নবীনবরণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরবর্তীতে ওদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।




