নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া উপকেন্দ্রের ৪ ও ১০ নম্বর ফিডারে জরুরি মেরামত ও গাছের শাখা-প্রশাখা ছাঁটাইয়ের অজুহাতে আজ রোববার দীর্ঘ আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎহীনতা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে ছাতিয়ানগাছা, শ্রীখণ্ডি, ভবানীপুর ও হারোয়া এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক কার্যত বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করবেন। মূলত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নামে এই সুদীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার ঘটনাটি স্থানীয় জনজীবনে এক প্রকার স্থবিরতা তৈরি করেছে, যার ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার এই দীর্ঘ সময়সীমা নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, আট ঘণ্টার মতো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলে গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন, তাদের জন্য এই গরমে বিদ্যুৎহীন থাকা অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পূর্ব ঘোষণা থাকলেও কাজের ধরন অনুযায়ী এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না রেখে বিকল্প কোনো উপায়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করা যেত। গ্রাহকদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের নামে বারবার এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতেই বড়াইগ্রাম-১ উপকেন্দ্রের ফিডারগুলোতে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, গাছের শাখা-প্রশাখা বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর ঝুলে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করলেও, কাজের মানোন্নয়ন বা গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে কোনো বিকল্প ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেনি। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো প্রায়ই গ্রাহকবান্ধব কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পথ বেছে নেয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট কেবল একটি দিনের সাময়িক সমস্যা নয়, বরং পল্লী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুর কাঠামোর প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার ফলে শিল্পকারখানা উৎপাদন হার হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলো রাতের বেলা অথবা রাতের শেষভাগে সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে, যাতে দিনের কর্মঘণ্টা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত গ্রাহক ভোগান্তি লাঘবে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগত সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা, যাতে বারবার দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎহীন থাকতে না হয় সাধারণ মানুষকে।




