শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শনের পর স্টিল মিল সাইডিং ও কলসি দিঘির পাড় এলাকায় রেলওয়ের নিজস্ব জমি সরেজমিনে ঘুরে দেখার সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
রেলওয়ের জমি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন
শনিবার সকালে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পৌঁছালে জিএম মামুনুল ইসলামকে আরএনবির একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। পরে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো, চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রশিক্ষণার্থীদের ডরমিটরি, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে পাহাড়তলী ও আশপাশের এলাকায় রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি পরিদর্শন করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা ও ভূমি দখলের চিত্র তার নজরে আসে। সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জিএম তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রতিবেদন ২: অপরাধ ও আইন বিভাগ
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন ধর্ষণ ও হত্যা: অপরাধ স্বীকার করে ঘাতক সিএনজিচালক সুমনের জবানবন্দি
কুমিল্লা ব্যুরো:
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল ও একমাত্র অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চরম মাদকাসক্ত সুমন ঘটনার দিনও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই মর্মান্তিক ও নৃশংস অপরাধ ঘটান।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে কুমিল্লার আদালতে উপস্থিত করা হলে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।
ঘটনার পটভূমি ও নৃশংসতা
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা একটি বাসে করে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামেন তাজমিন। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। চালক সুমন তাকে কৌশল করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান এবং ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পাশে থাকা একটি মসজিদের পুকুরে গোসল সেরে সুমন চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাইয়ের জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার এলাকা থেকে ঘাতক সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আসামী সুমনের পটভূমি
পুলিশ ও সুমনের পারিাবরিক সূত্রে জানা গেছে, সুমনের মূল বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায় হলেও দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে কুমিল্লার লালমাইয়ের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি গত ৬ বছর ধরে সিএনজি চালালেও দীর্ঘদিন যাবৎ মারাত্মকভাবে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করা ও পারিবারিক নির্যাতনের কারণে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। মাদকের টাকার চাহিদা ও নেশাগ্রস্ততার কারণে এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।




