চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল দোকানে মজুত ও বিক্রির অভিযোগে ৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ডিলার রশিদ আহমদের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছুড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের রোহাইপাড়া এলাকায় কামরুন্নাহার স্টোরে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজীদুর রহমান তন্ময়ের নেতৃত্বে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ৫০ কেজি ওজনের মোট ৯ বস্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা চালের বাজারমূল্য বা মোট আর্থিক মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ডিলারের কাছ থেকে চাল কেনার স্বীকারোক্তি
অভিযান চলাকালে দোকানমালিক ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি স্থানীয় মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইয়াহিয়া জব্দ করা চাল তার বোনজামাই রশিদ আহমদের কাছ থেকে কেনার কথা স্বীকার করেছেন।
রশিদ আহমদ পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।
ইয়াহিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স চিটাগাং স্টোরে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জনপ্রতিনিধির অভিযোগ
পুঁইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রিদুওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানে সরকারি চাল বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। পরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন।
চাল বিক্রির বিষয়ে ডিলারের বক্তব্য
অভিযুক্ত ডিলার রশিদ আহমদ বলেন, বাঁশখালীর প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মোট ৩২ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার রয়েছেন। গুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা পর্যন্ত তাদের প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ খরচ মেটাতে কিছু চাল বিক্রি করলে অসুবিধা কী, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রশাসনের
বাঁশখালী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম হেলালি বলেন, রশিদ আহমদের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি চাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ শুনেছেন। এবার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজীদুর রহমান তন্ময় বলেন, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দোকানে মজুত ও বিক্রির দায়ে দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নির্ধারিত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চালের অনিয়মিত মজুত বা বিক্রির অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।




