মূল খবরে যান

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬৭ কার্তিক ১৪৩৩

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
যুবদল নেতা শাকের হত্যা: সংগঠনের আরেক নেতাসহ গ্রেফতার ২দুর্গাপূজার মণ্ডপে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা, ফেসবুকে রুমিন ফারহানার জবাবঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’!তেহরানে ‘কারাবন্দি ট্রাম্প’, শিল্পকর্মে লেখা—‘এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ’দুর্গোৎসবে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার আনসার-ভিডিপিরফেসবুক স্টোরিতে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ প্রদর্শনের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে, সাঁথিয়ায় তোলপাড়পাঁচ বছরেও হয়নি পাকা সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পুলে পারাপার হাজারো মানুষেরখেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা চালু: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা চালু: প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা চালু: প্রধানমন্ত্রী

একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে।

‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের উদ্যোগে প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন কিংবা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছেন, যাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে এবং নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের আহ্বান

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। একজন ক্রীড়াবিদ যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের ওপর গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে সংযত থাকেন এবং পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করেন।

তরুণদের ইতিবাচক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা

তারেক রহমান বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নারী অ্যাথলেটদের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়েরা যেন পিছিয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা যেন বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথাও বলেন তিনি।

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সম্মিলিত সহযোগিতার তাগিদ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।

জাতীয়
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।