জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ। কষ্ট করে ছেলেকে বড় ও হাফেজ বানালেও এখন নিজের অসুস্থতার দিনে ছেলের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ ও বক্তা হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তার বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ। ছেলের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়পরায়ণতা ও নৈতিকতার ওয়াজ করলেও নিজের অসুস্থ বাবার খোঁজখবর রাখেন না তাশরীফ।
বাবার যত কষ্ট ও সংগ্রাম
ছেলের শৈশবের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেন, সামান্য ইমামতি করে সংসার চালানো এবং সন্তানের চিকিৎসা করানোর জন্য তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হয়েছে। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাশরীফের প্রস্রাবের জটিল রোগ হলে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুর হাসপাতালে বহু কষ্ট করে মানুষের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে টাকা এনে তার চিকিৎসা করিয়েছিলেন।
টাকা চেয়েও পাননি বাবা
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা বলেন, “পড়াইয়া তারে আজকে মাওলানা বানাইছি, হাফেজ বানাইছি। সে অস্বীকার যায়, আমি বলে তারে পড়াইছি না।” নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্টো তাশরীফ তাকে জানিয়েছেন যে তিনি জমি কিনবেন, তাই বাবাকে টাকা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সহায়তায় মানুষের অনুদান নিয়ে তাকে চিকিৎসা করাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছেলের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেন, “যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি।” তাশরীফের প্রচুর টাকা-পয়সা ও বন্ধু থাকলেও বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবার কোনো দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
মাদ্রাসা ভাঙচুর ও তাশরীফের বিতর্কিত বক্তব্য
এর আগে গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তিকর ঘটনা এবং পরবর্তীতে মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় তাশরীফের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “উনি চুমু দেন নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন।” তার ওই বক্তব্য নিয়ে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) আরেকটি ভিডিও বার্তায় নিজের বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তাশরীফ। তিনি স্পষ্ট জানান, আইনের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল এবং দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত।
পারিবারিক এই টানাপোড়েন এবং বাবার করা এমন গুরুতর অভিযোগের পর তাশরীফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




