দেশজুড়ে আলোচিত চাঞ্চল্যকর ‘চুমুকাণ্ডে’ মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে তাঁর পরিবার। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী মাস্টারপাড়া গ্রামে এই ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষক মোসলেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অবিশ্বাস্য দাবি করে তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, আট ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় মোসলেম উদ্দিনের বাবা ময়নাল হক (৭৫) একজন সাধারণ কৃষক এবং মা মনোয়ারা খাতুন (৬৫) গৃহিণী। অত্যন্ত দরিদ্র এই পরিবারের দাবি, মোসলেম গ্রেপ্তার হওয়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে তারা একজন ভালো আইনজীবী নিয়োগ করা তো দূরের কথা, কারাগারে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখাও করতে পারেননি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষক মোসলেমের মা মনোয়ারা খাতুন বলেন, “আমার ছেলের চরিত্র কখনোই খারাপ ছিল না। গ্রামের লোকজন কোনো দিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা এতই গরিব যে, ছেলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একজন ভালো আইনজীবী পর্যন্ত নিযুক্ত করতে পারিনি।”
মোসলেমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, স্বামীকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের দিন তাঁদের একমাত্র সন্তানের বয়স ছিল মাত্র ১৬ দিন। তিনি বলেন, “যাঁকে নিয়ে এত গুজব ছালানো হচ্ছে, সেই শিশুটি ও অন্য শিশুরা প্রায়ই আমাদের বাসায় আসত। আমি তাদের নিজের সন্তানের মতো আদর করতাম ও খাবার দিতাম। ওই শিশুটিকে আমার সামনে আনা হলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে।”
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, মোসলেম তাঁদের চোখের সামনেই বড় হয়েছেন এবং তাঁর আচরণ সবসময় ভালো ছিল। ফলে এই অভিযোগ তারা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।
মোসলেমের বড় ভাই চাঁন মিয়া জানান, মোসলেম ২০১৩ সালে মহিউচসুন্নাহ মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১৫ সালে রৌমারী কেরামতিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। পরে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল-কামিল এবং টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনে কখনো কোনো নেতিবাচক তথ্য ছিল না। তাঁর অতীত ও সুশৃঙ্খল আচরণের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধানরাও।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশী মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, মোসলেম ভালো ছেলে এবং তাঁর বাবা একজন সহজ-সরল কৃষক। তবে তিনি মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীর বাবার কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে জানানো উচিত ছিল, এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি।




