জর্ডানের একটি গির্জায় মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনায় ৯ জন নিহত হওয়ার পর এবার দক্ষিণ সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দারা প্রদেশের একটি গ্রামে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
জর্ডানের কারাক শহরের একটি গির্জায় গত শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী হামলার বদলা নিতে সিরিয়ার অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সোমবার দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের একটি গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। সিরীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে জর্ডানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সিরিয়ায় সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের আস্তানায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী হতাহত হয়েছে। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি জর্ডান।
সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ ও সিরিয়ার প্রতিক্রিয়া
জর্ডানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার আগে সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছিল। তবে দামেস্কের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে, জর্ডানের বিমান হামলার বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
এই হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জর্ডানের সঙ্গে একমাত্র চালু থাকা নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত দিয়ে উভয় দিকেই যাত্রী ও বাণিজ্যিক যান চলাচল পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জর্ডানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
গির্জায় হামলার মূল হোতারা গ্রেপ্তার
এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানের কারাক শহরের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে এক পৈশাচিক বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হন।
জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে কারাক শহরের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ওই হামলার মূল হোতাসহ তিনজনকে (দুই ভাই ও তাদের ভগ্নিপতি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া নিশ্চিত করেছেন যে, হামলাকারীরা প্রত্যেকেই জর্ডানের নাগরিক এবং তারা ওই এলাকারই একটি ভবনে আত্মগোপন করেছিলেন।




