লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)। এর ফলে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটির আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় পশ্চিম এশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিএওর মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান।
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
লিবিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলাকালে দেশটির আকাশ নিরাপত্তার অবনতি ঘটায় ২০১৫ সালে আইসিএও এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে সংঘাতের সময় ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কিছু উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক দুই প্রশাসনে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং সীমিতসংখ্যক বিমান সংস্থা দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে।
লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তার মানোন্নয়নের ওপর আস্থা রেখেই আইসিএও এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আকাশসীমা ব্যবহারে আগ্রহ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
আইসিএওর এই সিদ্ধান্তের পর লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর তরফ থেকে নজিরবিহীন আবেদন জমা পড়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে প্রায় ৬১ হাজার ৯৬৮টি ফ্লাইটের অনুমতি চেয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স। যেখানে আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ২ হাজার ফ্লাইট এই আকাশসীমা ব্যবহার করত।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের ফি বাবদ সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় যুক্ত হবে। আইসিএওর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাটির ১৯৩টি সদস্যদেশের কাছে পাঠানো হয়েছে।




