শয্যাপাশে দীর্ঘ সময়, পরিবারের খোঁজখবর; দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত
মাহফুজ জাহিদ :
রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় কেবল ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবিতে নয়, বরং দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়। সেই মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে অসুস্থ নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনি বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা, মহানগর বিএনপির সাবেক শিশুবিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন স্বপন এবং বিএনপির কর্মী নাসির উদ্দিনের বাড়িতে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী, মেয়ে অ্যাডভোকেট সামনূর বাঁধনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
চতুর্থবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য আবুল কালাম অসুস্থ নেতাকর্মীদের শয্যাপাশে বসে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
প্রিয় নেতাকে অসুস্থ অবস্থায় পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে একজন সংসদ সদস্য ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকে নিজের শয্যাপাশে পাওয়া তাঁদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এমন সময়ে তাঁর উপস্থিতি তাঁদের মনোবল বাড়িয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা গত ২৫ অক্টোবর থেকে অসুস্থ। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির সাবেক শিশুবিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন স্বপন গত ১১ অক্টোবর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। রাজধানীর পদ্মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা তাঁকে দেখতে যান এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আবুল কালাম
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। পেশায় আইনজীবী এই বিএনপি নেতা ১৯৮৭ সালে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য।
সংসদীয় রাজনীতিতেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ বি এম সিরাজুল মামুন পান ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আবুল কালাম। এবারের এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসুস্থ নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়ার উদ্যোগ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে পদ-পদবি ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই পারস্পরিক আস্থা ও সাংগঠনিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। একজন জনপ্রতিনিধির এমন উদ্যোগ শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, রাজনীতিতে মানবিকতা ও সহমর্মিতার গুরুত্ব সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।




