নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঋণের নামে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার কমিশন এ অনুমোদন দেয়। শিগগিরই মামলাটি করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
রোববার এক ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।
দুদক সচিবের ভাষ্য, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ওই অর্থ তুলে নেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি-সংক্রান্ত সার্কুলার এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সিআরএম পলিসি-২০১৭-এর বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সচিব বলেন, পর্যাপ্ত জামানত না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া ও নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন ও তা বাড়ানো হয়। এভাবে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বর্তমানে ওই অর্থের পরিমাণ ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে উত্তোলন করা হয়। পরে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।
রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হবে।
মামলায় সালমান এফ রহমানের ছেলে ও আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানকেও আসামি করা হচ্ছে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মনজুর ও পরিচালক ইশরাত জাহান লাইজু। আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, শাহ মনজুরুল হক, এ আর এম নজমুস ছাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল ও রাবেয়া জামালীও রয়েছেন।
এ ছাড়া ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সারোয়ার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল হাসনাত ও মনিতুর রহমানকে মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
অন্য আসামিরা হলেন- হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৈয়দ হাসানুজ্জামান, সাবেক হেড অব অপারেশন হেলাল আহমেদ, সাবেক ডিএমডি, সিসিও ও সিআরও ইকবাল পারভেজ চৌধুরী, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. মঈনউদ্দিন, সাবেক চিফ ম্যানেজার (প্রিন্সিপ্যাল ব্রাঞ্চ) হোসাইন শাহ আলী, মো. জুলফিকার আলী চাকদার, রিলেশনশিপ ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার সালমান মাহবুব।
দুদক জানিয়েছে, মামলার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।