বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়লেও, শেষ পর্যন্ত সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ চিত্র (৩০ সেপ্টেম্বর)
-
স্পট গোল্ড (Spot Gold): বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৫২.৮৬ ডলারে নেমে আসে।
-
গোল্ড ফিউচার (Gold Futures): পতনের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের বাজার ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১৮৬.৭০ ডলারে লেনদেন শেষ করে।
-
অন্যান্য ধাতু: সেপ্টেম্বরে শুধু স্বর্ণই নয়, কমেছে অন্যান্য ধাতুগুলোর দামও। রুপার দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.১৮ ডলারে ঠেকেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে চলতি প্রান্তিকে (Quarter) স্বর্ণ, রুপা ও প্ল্যাটিনাম—তিন ধাতুই এখনও বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।
দাম ওঠানামার পেছনের মূল ৩টি কারণ
১. যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও ফেডের সুদের হার
যুক্তরাষ্ট্রের আগস্ট মাসের পার্সনাল কনসামশন এক্সপেনডিচারস (PCE) মূল্যসূচক আগের মাসের চেয়ে ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর আগামী অক্টোবরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (CME) 'ফেডওয়াচ' টুল অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আগে ৪৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির থাকায় সেই সুযোগ নিতে পারেনি স্বর্ণ।
২. ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও তেলের বাজারে আগুন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কিংবা সংকট নিরসনে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন চড়া থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আর তা নিয়ন্ত্রণে ফেডকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
৩. বন্ডের রিটার্ন হ্রাস
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওয়ং জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্ডের আগের লাভ কমে যাওয়ায় নতুন করে ধাতুর বাজার চাপে পড়েছে। তার মতে, সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমলেও বিনিয়োগকারীদের শঙ্কার কারণে স্বর্ণের জন্য দিনটি শেষ পর্যন্ত হতাশাজনক ছিল।