বিশ্ব

অকল্পনীয় এক আশঙ্কায় কানাডা: মার্কিন আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন মার্ক কার্নি

অকল্পনীয় এক আশঙ্কায় কানাডা: মার্কিন আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন মার্ক কার্নি

 

যদিও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করেন কার্নি। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কে নতুন মোড় নেওয়ায় সব ধরনের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা তার দায়িত্ব এবং এটি কেবল "ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ"।

উদ্বেগের কারণ ও সামরিক বিশ্লেষণ

২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ এবং এর পরিবর্তে তিনি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন। তবে জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডীয় মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আশঙ্কা রয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরাসরি সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা খুবই কম। তবে কানাডার সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি মডেলের বরাত দিয়ে ‘গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের মুখে এক সপ্তাহের মধ্যে কৌশলগত অবস্থানগুলো পরাস্ত হলে কানাডীয় বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে। এছাড়া ন্যাটো জোট এবং নরডিক বা আর্কটিক অঞ্চলে দুই দেশের বহুমুখী সহযোগিতা থাকলেও ভূ-রাজনীতির এই অনিশ্চিত সময়ে কানাডা তাদের প্রতিরক্ষা ঘাটতি পূরণে সচেষ্ট রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠলেও, কানাডার নিজস্ব পরিচয়ের একটি মূল ভিত্তি হলো অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ১৭৭৫ ও ১৮১২ সালের যুদ্ধেও মার্কিন আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছিল কানাডার পূর্বসূরি উপনিবেশগুলো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার এই নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।