বিনোদন

ইলিয়াস কাঞ্চনের দেশে ফেরার অপেক্ষা

ইলিয়াস কাঞ্চনের দেশে ফেরার অপেক্ষা

বিনোদন প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিন পর প্রিয় অভিনেতাকে আবারও দেশের মাটিতে দেখার অপেক্ষায় তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা। চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। শারীরিক জটিলতার মধ্যেও তাঁর দেশে ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্তমহলে। তবে সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এখনো নিশ্চিত হয়নি; চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতেই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মস্তিষ্কে টিউমারজনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাঁর চিকিৎসায় কেমোথেরাপির দ্বিতীয় ধাপ চলছিল এবং শারীরিক অবস্থা তখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মহাসচিব লিটন এরশাদ জুনে জানিয়েছিলেন, লন্ডনে ইলিয়াস কাঞ্চনের দ্বিতীয় ধাপের কেমোথেরাপি চলছিল। চিকিৎসার এই ধাপ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। ফলে চিকিৎসা চলাকালে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনুরাগীরা তাঁর বর্তমান অবস্থা জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। জুনের প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, তিনি কথা বলতে পারলেও আগের মতো স্বাভাবিকতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি এবং দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে তাঁকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

চলচ্চিত্রের পর্দায় দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর ইলিয়াস কাঞ্চন নিজেকে যুক্ত করেছেন সড়ক নিরাপত্তার আন্দোলনের সঙ্গে। স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর তাঁর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে তিনি জনসচেতনতা তৈরির আন্দোলনে সক্রিয় হন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনটি তাঁর নেতৃত্বে দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি এই সামাজিক আন্দোলনের কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিচিতি চলচ্চিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্তৃত হয়েছে। তাই তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমীদের নয়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছেও অনুভূত হচ্ছে।

দেশে ফেরার বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতির খবর প্রকাশের পর চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফেরার প্রত্যাশার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার প্রয়োজনেই লন্ডনে অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দফার কেমোথেরাপি চলার কথা জানানো হয়েছিল এবং চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল।

চিকিৎসার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মধ্যে ইলিয়াস কাঞ্চন মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষার পেছনে তাই শুধু একজন অভিনেতার দেশে ফেরার গল্প নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন, দর্শকের আবেগ এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পৃক্ততা। একসময় রূপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে যাঁকে ঘিরে দর্শকের উচ্ছ্বাস ছিল, পরবর্তী সময়ে তিনিই সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁর সুস্থতা। চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেশে ফেরার চেয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ করাই অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাঁর দেশে ফেরার দিনক্ষণও তাই এখনো নির্দিষ্ট নয়।

সর্বশেষ যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তখনও চূড়ান্ত হয়নি। জুলাইয়ের পর তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য আপডেট প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর দেওয়া সমীচীন হবে না।

তাই ইলিয়াস কাঞ্চনের গল্প আপাতত ‘ফিরে আসার’ নয়, বরং সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষার গল্প। দেশ ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের প্রত্যাশা—চিকিৎসার কঠিন সময় পেরিয়ে একদিন আবার ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন প্রিয় এই অভিনেতা; আর সেই প্রত্যাবর্তন হবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তির এক মুহূর্ত।