জাতীয়

কমিশনহীন দুদকে জমেছে অভিযোগের পাহাড়

কমিশনহীন দুদকে জমেছে অভিযোগের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে থাকা দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে, তখন তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজে সীমাবদ্ধ থাকে না; দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান, মামলা, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপেও এর প্রভাব পড়ে। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর দীর্ঘ সময় কমিশনশূন্য ছিল দুদক। এই সময়ে নতুন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত, নতুন মামলা দায়ের, তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র অনুমোদন এবং সম্পদ ক্রোক বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার অভিযোগ ঝুলে থাকার তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ও নতুন কমিশন গঠনের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দুদকের এই নেতৃত্বশূন্যতার সময়েই দেশে দুর্নীতির অভিযোগের প্রবাহ থেমে থাকেনি। ২০২৫ সালে দুদকে ১৩ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৩৬টি অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করা হয়, যা ওই বছর জমা পড়া অভিযোগের প্রায় ১৮ শতাংশ এবং দুদক প্রতিষ্ঠার পর এক বছরে সর্বোচ্চ অনুসন্ধানের সংখ্যা। একই বছর ৫৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তিকে এসব মামলায় আসামি করা হয়। ফলে পুরোনো অনুসন্ধান ও মামলার পাশাপাশি নতুন অভিযোগের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে।

তবে অভিযোগ জমা পড়া এবং তার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ রয়েছে। দুদকের বিদ্যমান কাঠামোয় কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত, মামলা দায়ের কিংবা তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। কমিশন না থাকায় আগে অনুমোদিত অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা কিছু কাজ এগিয়ে নিতে পারলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গায় গিয়ে অনেক ফাইল আটকে ছিল। ফলে অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ আংশিকভাবে চললেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের জট।

জুনের শেষ দিকে প্রকাশিত তথ্যে প্রায় ৭ হাজার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ ঝুলে থাকার কথা বলা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন না থাকায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। অন্যদিকে পুরোনো অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁদের কাজ চালিয়ে গেলেও মামলা দায়ের বা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন কমিশনের অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে দুদকের ২০২৫ সালের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান। ওই বছর সংস্থাটি ৪১৩টি মামলায় অভিযোগপত্র এবং ৮৯টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একই সময়ে ৪৩২ জনকে সম্পদ বিবরণী দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের মাধ্যমে প্রায় ২৯ হাজার ৩১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ ক্রোকের আদেশও পাওয়া যায়, যার মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ১৩৭ কোটি এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ কমিশন কার্যকর থাকা অবস্থায় বিপুলসংখ্যক অনুসন্ধান, মামলা ও সম্পদসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তার পরবর্তী পর্যায়ে নতুন কমিশন না থাকায় সিদ্ধান্তনির্ভর কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

দুদকের নেতৃত্বশূন্যতার আরেকটি দিক হলো, দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার সময়ের গুরুত্ব। কোনো অভিযোগে অবৈধ সম্পদ বা অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সম্পদ দ্রুত হস্তান্তর, বিক্রি বা অন্যের নামে স্থানান্তরের ঝুঁকি থাকে। একইভাবে কোনো অভিযুক্তের বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কমিশন না থাকায় সম্পদ ক্রোক, হিসাব অবরুদ্ধ বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে তদন্তের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন উদ্বেগ দুদকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে।

তবে কমিশনশূন্যতার অর্থ এই নয় যে দুদকের সব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। আগের কমিশনের অনুমোদন পাওয়া অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা চালিয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথি সংগ্রহ, তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মতো তদন্ত কার্যক্রম চলেছে। কিন্তু নতুন অনুসন্ধান শুরু করা এবং তদন্ত শেষে মামলা বা অভিযোগপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আটকে ছিল। ফলে বাইরে থেকে সংস্থাটির কিছু কার্যক্রম চলমান দেখা গেলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে ছিল শূন্যতা।

এর মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ২২ জুন সরকার পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা।

এরপর ২ জুলাই চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ জুলাই বিকেল ৪টা। দুদকের ইতিহাসে শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য সরাসরি আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বানের এই উদ্যোগকে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ হিসেবে দেখা হয়েছে।

জুলাইয়ের শুরুতে বাছাই কমিটির বৈঠকও শুরু হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানান, দুদক পুনর্গঠনের জন্য নাম সুপারিশ করতে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে এবং এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ কমিশনশূন্যতার পর সরকার প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

দুদকের এই সংকটের পেছনে শুধু নেতৃত্বের শূন্যতাই নয়, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রশ্নও রয়েছে। ২০২৫ সালে দুদককে নিয়ে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা ও আইনগত কাঠামো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নতুন কমিশন তিন সদস্যের হবে, নাকি সংস্কারের প্রস্তাব অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের কাঠামো কার্যকর হবে—এ নিয়েও একপর্যায়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনগত কাঠামোর প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দুদকের ওপর মানুষের প্রত্যাশা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সাবেক মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা সামনে আসার পর সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে জনআলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৫ সালে মামলার সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং বিপুল সম্পদ ক্রোকের আদেশ পাওয়া সেই কার্যক্রমের পরিধিও দেখায়। কিন্তু অভিযোগের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুততার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়াও জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়া মানেই তিনি দুর্নীতির জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান, প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া—সব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয়। তাই নতুন কমিশনের সামনে একদিকে জমে থাকা অভিযোগ ও মামলার চাপ, অন্যদিকে তদন্তের মান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে।

বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুর্নীতির অভিযোগের সংখ্যা বাড়লে দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঝুঁকিও থাকে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার অবস্থান যেন অভিযোগ গ্রহণ বা তদন্তের মান নির্ধারণের মাপকাঠি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একইভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হয়রানির অভিযোগ এড়াতে প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা প্রয়োজন। দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সে কতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার ওপর নয়, বরং কোন মানদণ্ডে অভিযোগ যাচাই করেছে এবং কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ওপর।

নতুন কমিশনের সামনে তাই জমে থাকা ফাইলের জট খুলে দেওয়াই একমাত্র কাজ নয়। নতুন অভিযোগ গ্রহণ, পুরোনো অনুসন্ধানের অগ্রগতি মূল্যায়ন, দীর্ঘদিনের মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পদ ক্রোক ও অর্থপাচারের তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অভিযোগের ভিত্তিহীন অংশ বাদ দেওয়ার মতো কাজও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যে অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, সেগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রয়োজন।

দুদকের ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান দেখায়, অভিযোগের তুলনায় অনুসন্ধানে নেওয়া মামলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ১৩ হাজার ৮৭৭টি অভিযোগের মধ্যে ২ হাজার ৫৩৬টির অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। এর অর্থ এই নয় যে বাকি অভিযোগগুলো দুর্নীতির প্রমাণ বহন করে; অভিযোগের একটি বড় অংশ যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুসন্ধানের উপযোগী না-ও হতে পারে। তবে হাজার হাজার অভিযোগ জমে থাকলে সেগুলো দ্রুত যাচাই করার সক্ষমতা এবং অভিযোগকারীর কাছে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের অংশ।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কত দ্রুত এই জমে থাকা কাজ স্বাভাবিক করতে পারে। প্রায় ৭ হাজার অভিযোগের জটের তথ্য, পুরোনো অনুসন্ধান ও মামলার ফাইল এবং প্রতিদিন নতুন অভিযোগ আসার বাস্তবতা মিলিয়ে নতুন কমিশনের সামনে কাজের পরিমাণ কম নয়। একই সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তনির্ভর কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থবির থাকায় কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে নথি যাচাই, তদন্তের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত তথ্য মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

দুদককে কার্যকর করতে হলে শুধু চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ যথেষ্ট হবে না। কমিশনের স্বাধীনতা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা, তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা, ডিজিটালভাবে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও মামলার জন্য সময়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করাও জরুরি হতে পারে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সক্ষমতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো অভিযোগের পরিমাণ নয়, অভিযোগ থেকে ন্যায়সংগত পরিণতিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা। দুদকের সামনে এখন সেই পরীক্ষাই সবচেয়ে বড়। দীর্ঘ নেতৃত্বশূন্যতার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে; কিন্তু জমে থাকা হাজারো অভিযোগ ও মামলার জট খুলতে না পারলে নতুন নেতৃত্বও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারবে না।

অতএব, নতুন কমিশনের দায়িত্ব হবে একদিকে স্থবিরতা কাটিয়ে দুদকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে প্রতিটি অভিযোগকে প্রমাণ, আইন ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে যাচাই করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে দ্রুততা ও নিরপেক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। কারণ একটি অভিযোগের অযথা বিলম্ব যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সক্ষমতাকে দুর্বল করে, তেমনি অপর্যাপ্ত যাচাইয়ে নেওয়া পদক্ষেপও ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন কমিশনের সাফল্য তাই শুধু কত মামলা হলো, কত সম্পদ জব্দ হলো বা কত অভিযোগ নিষ্পত্তি হলো—এসব সংখ্যায় নয়; বরং কতটা স্বাধীন, প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেল, তার ওপর নির্ভর করবে।