বস্তি থেকে বোকা জুনিয়র্সের আঙিনায়
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া ফ্লোরেসের বেড়ে ওঠা বুয়েনস এইরেসের উত্তরের অন্যতম দরিদ্র এলাকা ভিয়া লা কাভার এক বস্তিতে। মাত্র সাত বছর বয়সে তার প্রতিভা নজর কাড়ে বোকা জুনিয়র্সের স্কাউটদের। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে বাস ধরে অনুশীলনে যাওয়া এবং অদম্য অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একাডেমির প্রতিটি স্তর পার করেন তিনি। গত জুলাইয়ে বোকার কোচ আরুয়াবারেনার অধীনে মূল দলে অভিষেক হওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই গোল করে আস্থার প্রতিদান দেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
সাত দিনে চার ম্যাচ এবং রূপকথার উত্থান
সেপ্টেম্বরে স্কালোনির জাতীয় দল থেকে ডাক পাওয়ার পর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে তার ক্যারিয়ারে যোগ হয় নতুন এক মাত্রা। বলিভিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তের জার্সিতে অভিষেকের পর ক্লাবে ফিরে উনিয়ন দে সান্তা ফের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। এরপর বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষেও মাঠে নামেন ফ্লোরেস। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এই ধকল সামলিয়ে মাঠে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।
খেলার ধরন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ফ্লোরেস মূলত একজন ফরোয়ার্ড হলেও উইংয়ের দুই পাশে, নিখাদ স্ট্রাইকার কিংবা স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে ৭, ৯, ১০ বা ১১ নম্বর জার্সিতে সাবলীলভাবে খেলতে পারেন। তার দুর্দান্ত গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। ফুটবলে নিজের আদর্শ হিসেবে মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমেকে মানলেও, ওয়ান-টু-ওয়ানের লড়াইয়ে নিজেকে আরও ধারালো করতে জেরেমি ডোকু ও জামাল মুসিয়ালার খেলা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।
বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে দারুণ ছন্দে থাকা এই তরুণকে নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনিও বেশ আশাবাদী। ফ্লোরেসের রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার ওপর জোর দিয়ে স্কালোনি জানিয়েছেন, ফ্রোঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর মতো এই তরুণরাও ভবিষ্যতে দলকে দারুণ কিছু উপহার দেবে।
ইতিমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে চলে আসা ফ্লোরেসের সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছে বোকা জুনিয়র্স এবং তার রিলিজ ক্লজ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ডলার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোরেস কি কেবল ‘আরেকজন মেসি’ হয়ে হারিয়ে যাবেন, নাকি বিশ্ব ফুটবলে নিজেই হয়ে উঠবেন ‘প্রথম বেনজা’—সেটিই এখন দেখার বিষয়!




