মূল খবরে যান

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
পটিয়ায় সিএনজিতে তুলে গরু চুরির চেষ্টা: হাতেনাতে আটক ২ নারী, পুরুষ সহযোগীরা পলাতকজাতীয় কন্যাশিশু দিবস: কন্যাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানব্যাংকের টাকা চুরির মামলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা কেএম ফরিদ আমিন গ্রেপ্তারপরিস্থিতি কতটা অবনতি হলে পুলিশকে একাকী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়’: সরকারপ্রধানের উদ্দেশ্যে গোলাম পরওয়ারমিরসরাই ও ছাগলনাইয়া সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান, ৫০টি ভারতীয় গরু ও বিপুল পরিমাণ মদ জব্দডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ছাড়াল দুই হাজারবিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ ঘিরে বিভ্রান্তি নিরসনে ওলামা-মাশায়েখের ৫ দফা দাবি, টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত চার্জশিট চান আলেমরানারায়ণগঞ্জে লিংক রোডের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা তরুণীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
খেলা

৬৩ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, সে রেকর্ড দেখল জার্মান ফুটবল

আন্তর্জাতিক বিরতির পর বুন্ডেসলিগায় ফিরেই ঐতিহাসিক দ্রুততম গোলের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব, যেখানে বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের ভুলে মাত্র ৮ সেকেন্ডে গোল করে রেকর্ড গড়লেন অগসবুর্গের রবিন ফেলহাউয়ার।

৬৩ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, সে রেকর্ড দেখল জার্মান ফুটবল

জার্মান ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বুন্ডেসলিগার ৬৩ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। অগসবুর্গের ঘরের মাঠে আয়োজিত এই ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে মাঠে নামার মাত্র ৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্বাগতিক মিডফিল্ডার রবিন ফেলহাউয়ার। ম্যাচের শুরুতেই বায়ার্ন মিউনিখের কিক-অফ থেকে বল পাওয়ার পর গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসের অভাবে বড় ধরনের ভুল করে বসেন। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল বুঝে পাওয়ার পর নয়্যার বলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিবর্তে ফেলহাউয়ারের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বিপদমুক্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। এই সুযোগটিই দারুণভাবে কাজে লাগান অগসবুর্গের এই মিডফিল্ডার; তিনি সতর্ক থেকে লাফিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন এবং অরক্ষিত বায়ার্ন গোলপোস্টে বল ঠেলে দিয়ে ইতিহাস গড়েন। এই গোলটি শুধুমাত্র ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে দীর্ঘদিনের টিকে থাকা রেকর্ডকেও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

ম্যাচের এই অপ্রত্যাশিত শুরুর পর বায়ার্ন মিউনিখের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের এমন দায়সারা মনোভাব নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বায়ার্ন সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিরতির পর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে পেশাদারিত্ব এবং মনোযোগ থাকার কথা ছিল, এই ম্যাচে তার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। গোল হজম করার পর বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়দের মানসিক চাপে থাকতে দেখা গেছে, যা তাদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভুক্তভোগী দলের সমর্থক এবং মাঠের উপস্থিত দর্শকরা এই মুহূর্তটিকে বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান রক্ষণাত্মক কৌশলের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন। ফেলহাউয়ারের এই গোলটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতা ছিল না, বরং এটি ছিল বায়ার্ন মিউনিখের মতো একটি শক্তিশালী দলের রক্ষণভাগের অগোছালো পরিকল্পনার সরাসরি প্রতিফলন, যা ম্যাচের বাকি সময়জুড়ে দলটির পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

রেকর্ড গড়া এই গোলটির পর বায়ার্ন মিউনিখ অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েছে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে বায়ার্ন সমতায় ফিরলেও, ৬৪ মিনিটে অগসবুর্গ পুনরায় গোল করে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৮০ মিনিটে বায়ার্ন গোল শোধ করে ম্যাচটি ২-২ ব্যবধানে ড্র করতে সক্ষম হয়। এই ফলাফল বায়ার্ন মিউনিখের কোচিং স্টাফদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ার্ন শিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের ওই ভুলটি ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তবে রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা নিয়ে তারা ভবিষ্যতে কঠোর অনুশীলনের পরিকল্পনা করছে। বুন্ডেসলিগার মতো প্রতিযোগিতামূলক লিগে প্রতিটি সেকেন্ডের গুরুত্ব কতটা, তা এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে। অগসবুর্গ কর্তৃপক্ষ এই জয় বা ড্রয়ের মাধ্যমে তাদের দলের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছে।

রবিন ফেলহাউয়ারের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর বুন্ডেসলিগার রেকর্ড বইয়ে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এর আগে ২০১৪ সালে করিম বেলারাবি এবং ২০১৫ সালে কেভিন ভলান্ড ৯ সেকেন্ডে গোল করে যে যৌথ রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন, তা আজ ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেয়েছে। এই দ্রুততম গোলের ঘটনাটি বায়ার্ন মিউনিখের মতো জায়ান্ট ক্লাবের জন্য যেমন একটি বড় ধাক্কা, তেমনি অন্যান্য ছোট দলগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে বুন্ডেসলিগার প্রতিটি ম্যাচে শুরুর কয়েক মিনিটের আক্রমণাত্মক কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবিন ফেলহাউয়ারের এই ঐতিহাসিক অর্জন ফুটবল বিশ্বে বুন্ডেসলিগার রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতার ধারাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল, যা দর্শকদের মাঝে আগামী ম্যাচগুলো নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে।

খেলা
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে