যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা: স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, শেলেখোভের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াবাহী একটি টেস্টটিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে ফেলেন দারিয়া। সেখান থেকেই তিনি অত্যন্ত সংক্রামক নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয় এবং ১ অক্টোবর তিনি মারা যান।
ব্যাপক সতর্কতা ও কোয়ারেন্টাইন: ঘটনার পর ওই টেকনিশিয়ানের সংস্পর্শে আসা দুই শতাধিক মানুষকে দ্রুত চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ইারকুতস্ক অঞ্চলে সব ধরনের জনসমাগম ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
অবশ্য ইারকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ প্রথমে এটি ‘বিপজ্জনক সংক্রমণ’ বললেও পরবর্তীতে টেলিগ্রাম বার্তায় দাবি করেন, এটি মূলত অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়া এবং রোগীর নমুনা থেকে পেশাগত কাজের কোনো ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া যায়নি। তবে জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে রাশিয়ার কনজুমার সেফটি ওয়াচডগ ‘রোস্পোট্রেবনাতজর’-এর সঙ্গে বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ মহামারি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী বুরিয়াতিন অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে ইারকুতস্ক অঞ্চলে ওই নারী সম্ভবত প্লেগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন।
নিউমোনিক প্লেগ কেন এত বিপজ্জনক? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুস-কেন্দ্রিক নিউমোনিক প্লেগ হলো প্লেগের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ।
-
সুপ্তিকাল ও লক্ষণ: সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সঙ্গে রক্তমিশ্রিত কফ বের হওয়া।
-
সংক্রমণের ঝুঁকি: আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে খুব সহজেই অন্য মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে।
-
চিকিৎসা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা না দিলে নিউমোনিক প্লেগ মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।